মো. ইসহাক, ঈশ্বরগঞ্জ(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মুঘল শাসনামলের এক অন্যতম নিদর্শন সোহাগী জিগাতলা মুন্সী বাড়ি জামে গুল মসজিদ। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সোহাগী ইউনিয়নে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদ।

মুঘলরা প্রায় ৩৫০ বছর উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে গৌরবোজ্জ্বল শাসন করে গেছে। রাজনৈতিকভাবেই শুধু শক্তিশালী ছিল না মুঘল শাসকরা, সাম্রাজ্যের পরিবর্তন, সংস্কৃতি, সামাজিক জীবন ও স্থাপত্যের উন্নয়নে তাদের রয়েছে অসাধারণ স্বাক্ষর।

আনুমানিক ১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) ধনাই সরকার ও মনাই সরকারের বাবা গহীন শাহ্ ফকির সুদর্শন এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
উন্নতিসাধনের অভাবে মসজিদটি বর্তমানে জরাজীর্ণ।

অযত্ন-অবহেলায় স্থাপনাটি হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। অথচ প্রাচীন ঐতিহ্যের অপরূপ স্থাপত্যশৈলী দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। কিন্তু এ স্থাপনা সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এই মসজিদের স্থাপত্যরীতিতে মুঘল ভাবধারার ছাপ সুস্পষ্ট।

মসজিদটিতে বিশাল ১টি গম্বুজ আছে রয়েছে কারুকার্যখচিত ৪টি মেহরাব। মসজিদটির গম্বুজের নিচে আরবি ভাষায় লেখা একটি শিলালিপি রয়েছে। মসজিদটির গাঁথুনি চুন-সুরকি দিয়ে। মসজিদের রয়েছে তিনটি প্রবেশদ্বার। চারদিক থেকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মসজিদের ভেতরে-বাইরে সর্বত্রই টেরাকোটার নকশা।
মসজিদের সামনে একটি বিশাল দিঘি রয়েছে। এছাড়া গুল মসজিদের উত্তর পাশেই রয়েছে গহীন শাহ্ ফকিরের মাজার। মাজারটিতে প্রতি বছর নিয়মিত উরস উদযাপন করা হলেও গত ৩০ বছর যাবৎ এখানে কোন উরস উদযাপন করা হয়নি।

গহীন শাহ্ ফকির জনকল্যাণের জন্য মসজিদের সামনেই একটি দিঘি খনন করেন। দিঘিটি ১৮ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে। দিঘির চার পাশে বিশাল পাড় রয়েছে, রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

ঐতিহাসিক এই মসজিদের পূর্ব পাশেই রয়েছে বিশাল একটি ঈদগাঁহ মাঠ যেখানে প্রতি বছর দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহ্যের এ শৈল্পিক স্থাপনার শরীরজুড়ে এখন শুধুই অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। মসজিদের দেয়ালের কিছু কিছু অংশ ধসে পরছে। তবে এখনো এই মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজই আদায় হয়।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুরনো নকশা অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। মসজিদটি সংস্কারের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। মসজিদের যেসব অংশে সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তেমন কিছু করে উঠতে পারছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঐতিহাসিক এই মসজিদের বিষয়ে আমার জানা ছিলো না তবে মসজিদ কমিটি যদি মসজিদের উন্নয়নের জন্য আবেদন করেন তাহলে অবশ্যই অমূল্য পুরাকীর্তি রক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

মোঃ ইসহাক
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
০১৯১০২০৭৪৫৪